জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

মো. জুয়েল শেখ

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

বাংলাদেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হলো মাছ। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি অনুধাবন করেই স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন- ‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’। মৎস্য সেক্টরের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

মৎস্য খাতের বহুমুখী কর্মকা-কে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এ সেক্টরের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সর্বপ্রথম জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কার্যক্রম ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সাল হতে দেশব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে উল্লেখ করেন ‘জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মৎস্য চাষ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জাতির জনকের সোনার বাংলা করার ক্ষেত্রে মৎস্য সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং গণভবন লেকে মাছের পোনা অবুমক্ত করেন। মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নের ইপ্সিত এ গতির অন্যতম নিয়ামক হলো- ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন’। ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা, লাগসই মৎস্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণ তথা জনগণের সচেতনতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই মৎস্য উন্নয়নের জন্যই প্রতি বছর জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হয়।

প্রাণিজ আমিষের জোগান বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ মৎস্য সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনকালে, গণসচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি বিভিন্ন মৎস্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ নিম্নরূপ-
*সড়ক র‌্যালি, প্রেস ব্রিফিং, মৎস্য মেলা, সভা/সেমিনার;
*মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় মৎস্য পুরস্কার প্রদান;
*মৎস্য সেক্টরের সাফল্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র;
*মাছের পোনা অবমুক্তকরণ;
*দৈনিক পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ;
*বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে আলোচনা, প্রচারণা;
*মৎস্য আইন বাস্তবায়ন অভিযান, ইত্যাদি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি দেশব্যাপী ৭ সাত দিন পালিত হয়। মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কেন্দ্রীয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগের দিন অর্থাৎ প্রথম দিন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাধারণত মৎস্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী এর উপস্থিতিতে একটি প্রেস ব্রিফিং হয়।

দ্বিতীয় দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গণভবন লেকে পোনামাছ অবমুক্তকরণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবময় ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সফল মৎস্যচাষি/মৎস্যজীবী/উদ্যোক্তা/ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/গবেষক এর মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় মৎস্য পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন লেক এ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার/ডেপুটি স্পিকার/চিফ হুইপের উপস্থিতিতে এবং ধানমণ্ডি লেকে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়ে থাকে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে সাধারণত পাঁচ দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় মৎস্য মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ মেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনসহ মৎস্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে তিনদিন ব্যাপি মৎস্য মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ সপ্তাহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ আলাদাভাবে মৎস্য প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করে থাকে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের পটভূমি

কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ/ জনবহুল স্থান ও মাছের আড়তে আলোচনা সভা/ ভিডিও প্রদর্শনী করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন, র‌্যালি, উদ্বোধন অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, মাছের পোনা অবমুক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে-

*ফরমালিনবিরোধী অভিযান
*মৎস্যবিষয়ক আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
*বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মৎস্যচাষ বিষয়ক আলোচনা/বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন
*হাটবাজার/জনবহুল স্থানে মৎস্য চাষ বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও ভিডিও/প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন।
*জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শেষে এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক ও সমাপনী অনুষ্ঠান করা হয়।
*জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপনের নিমিত্ত প্রতি বছরই একটি স্লোগান/প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-
‘মাছ চাষে গড়বো দেশ
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’

আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্যসম্মত চিংড়ি মাছ উৎপাদন ও রপ্তানিতে আধুনিক প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন